Skip to main content

Posts

Showing posts from July, 2025

Masked finfoot (কালোমুখ প্যারা পাখি)

পৃথিবীর পাখি জগতের অন্যতম রহস্যময় এবং বিরল পাখি হলো মাস্কড ফিনফুট । এর  ইংরেজি নাম Masked finfoot( কালোমুখ প্যারা পাখি)  এবং নবৈজ্ঞানিক নাম Heliopais personatus । বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে এ পাখির দেখা মেলে। দুর্লভতার কারণে অনেকেই এ পাখির নাম শোনেননি। চলুন এই অসাধারণ পাখিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই। Masked finfoot (ছবিটি সুন্দরবন থেকে তোলা) বাহ্যিক রূপ ও চেহারা মাস্কড ফিনফুটের গায়ের রঙ ধূসর-বাদামী। এর চোখের চারপাশে কালো মাস্কের মতো চিহ্ন থাকে, যা একে “Masked” অর্থাৎ মাস্ক পরা বা মুখোশ পরা পাখির উপাধি দিয়েছে। এর পা লম্বা ও সবুজাভ-হলুদ রঙের হয়, এবং পায়ের আঙুলগুলোতে ফ্ল্যাপযুক্ত ঝিল্লি থাকে, যা একে সহজে সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৩-৫৫ সেমি হয়। আবাসস্থল এরা সাধারণত শান্ত জলাশয়, খাল, নদীর পাড়, জলাভূমি এবং জঙ্গল ঘেরা নদীর ধারে থাকতে পছন্দ করে। ঘন জঙ্গলের আড়ালে থাকা এদের প্রিয়। এজন্য এদের দেখা পাওয়া বেশ কঠিন। খাদ্যাভ্যাস মাস্কড ফিনফুট বিভিন্ন জলজ পোকামাকড়, শামুক, মাছ, কেঁচো, এবং ছোট জলজ প্রাণী খ...

পাহাড় আর মানুষের গল্প: জুমঘর

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনে জুম ঘরের গুরুত্ব, ইতিহাস, নির্মাণ পদ্ধতি, ব্যবহার, সংস্কৃতি এবং এর সঙ্গে জড়িত জীবনযাত্রার গল্প জানুন এই বিশদ বাংলা ব্লগপোস্টে। পরিচিতি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রকৃতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি বৈচিত্র্যময় এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা। পাহাড়, ঝর্ণা, নদী আর সবুজ বন-জঙ্গলের মধ্যে গড়ে ওঠা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনধারায় এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে জুম চাষ । আর এই ঝুম চাষের অপরিহার্য অংশ জুমঘর (Jhum Ghor)। জুমঘর শুধু একটি বাসস্থান নয়; এটি পাহাড়িদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন, পরিশ্রম আর প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মেলবন্ধনের প্রতীক। জুমঘর জুম চাষ আর ঝুম ঘরের সম্পর্ক জুম চাষ বলতে বোঝায় পাহাড়ের ঢালে গাছপালা কেটে, পুড়িয়ে সেখানে বিভিন্ন শস্য ফলানো। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য এ চাষ এক ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি, যা তাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার মূল ভরসা। জুম চাষের মৌসুমে পাহাড়ি মানুষদের প্রায়ই চাষের জমির কাছেই থাকতে হয়। কারণ পাহাড়ি পথ দীর্ঘ, দুর্গম, প্রতিদিন গ্রাম থেকে যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। তখনই দরকার হয় জুম ঘরের। জুম ঘর হলো এমন এক ছোট কুঁড়েঘর, যা চাষে...

Purple Sunbird বা বেগুনি মৌটুসী

পার্পল সানবার্ড (Purple Sunbird) বা বেগুনি মৌটুসী পাখির রঙ, স্বভাব, বাসস্থান, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশের গুরুত্ব নিয়ে পড়ুন। বাংলাদেশের পাখি নিয়ে বাংলায় বিস্তারিরু পড়ুন প্রকৃতি ও প্রাণ ব্লগে। বাংলাদেশের প্রকৃতি যেন রঙের উৎসব। সেই উৎসবের অন্যতম অংশীদার ছোট্ট এক পাখি — পার্পল সানবার্ড (Purple Sunbird) । এর বৈজ্ঞানিক নাম Cinnyris asiaticus । আকারে ছোট হলেও গায়ের উজ্জ্বল রঙের কারণে একে সহজেই আলাদা করা যায়। বাংলায় অনেকেই একে  বেগুনি মৌটুসী বা  দুর্গা টুনটুনি,  পাখি নামেও চেনে। পুরুষ  বেগুনি মৌটুসী শারীরিক গঠন ও রঙের বাহার পার্পল সানবার্ড সাধারণত ১০-১২ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। পুরুষ পাখি প্রজনন মৌসুমে অত্যন্ত সুন্দর রঙ ধারণ করে। তখন তার পালক হয় গাঢ় বেগুনি-নীল বা মেটালিক নীল রঙের, যা সূর্যের আলোতে ঝলমল করে। এ যেন প্রকৃতির আঁকা নীলরঙা শিল্পকর্ম। অন্যদিকে, স্ত্রী পাখির গায়ের রঙ হয় জলপাই-বাদামি এবং পেটের দিকটা হলুদাভ বা সাদা। পুরুষের মতো উজ্জ্বল নয়, তবে দেখতে দারুণ মিষ্টি। বাসস্থান ও বিস্তার বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই পার্পল সানবার্ড (Purple Sunbird) দেখা যায়।...