Skip to main content

Purple Sunbird বা বেগুনি মৌটুসী

পার্পল সানবার্ড (Purple Sunbird) বা বেগুনি মৌটুসী পাখির রঙ, স্বভাব, বাসস্থান, খাদ্যাভ্যাস এবং পরিবেশের গুরুত্ব নিয়ে পড়ুন। বাংলাদেশের পাখি নিয়ে বাংলায় বিস্তারিরু পড়ুন প্রকৃতি ও প্রাণ ব্লগে।

বাংলাদেশের প্রকৃতি যেন রঙের উৎসব। সেই উৎসবের অন্যতম অংশীদার ছোট্ট এক পাখি — পার্পল সানবার্ড (Purple Sunbird)। এর বৈজ্ঞানিক নাম Cinnyris asiaticus। আকারে ছোট হলেও গায়ের উজ্জ্বল রঙের কারণে একে সহজেই আলাদা করা যায়। বাংলায় অনেকেই একে বেগুনি মৌটুসী বা দুর্গা টুনটুনি, পাখি নামেও চেনে।

পুরুষ বেগুনি মৌটুসী

শারীরিক গঠন ও রঙের বাহার

পার্পল সানবার্ড সাধারণত ১০-১২ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। পুরুষ পাখি প্রজনন মৌসুমে অত্যন্ত সুন্দর রঙ ধারণ করে। তখন তার পালক হয় গাঢ় বেগুনি-নীল বা মেটালিক নীল রঙের, যা সূর্যের আলোতে ঝলমল করে। এ যেন প্রকৃতির আঁকা নীলরঙা শিল্পকর্ম।

অন্যদিকে, স্ত্রী পাখির গায়ের রঙ হয় জলপাই-বাদামি এবং পেটের দিকটা হলুদাভ বা সাদা। পুরুষের মতো উজ্জ্বল নয়, তবে দেখতে দারুণ মিষ্টি।

বাসস্থান ও বিস্তার

বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই পার্পল সানবার্ড (Purple Sunbird) দেখা যায়। এদের সাধারণত দেখা মেলে:

✅ গ্রাম্য এলাকা বা বাগান
✅ শহরের পার্ক বা উদ্যান
✅ ঝোপঝাড়, কাঁটাঝোপ
✅ বিভিন্ন ফুলের গাছের আশেপাশে

এরা সমতল এলাকা থেকে শুরু করে পাহাড়ি অঞ্চলের ১৫০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত বসবাস করতে পারে। শহরের ছাদবাগানেও এদের দেখা মেলে প্রায়ই।

খাদ্যাভ্যাস

পার্পল সানবার্ড মূলত নেক্টার বা ফুলের মধু খায়। এর লম্বা বাঁকা ঠোঁট মধু টেনে নেওয়ার জন্য একেবারে উপযুক্ত। তবে এরা ছোট পোকামাকড়ও খায়, বিশেষ করে ডিম পাড়ার মৌসুমে প্রোটিনের প্রয়োজন মেটাতে।

এই কারণে পার্পল সানবার্ড আমাদের প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এরা ফুলের পরাগায়নেও সাহায্য করে।

আচরণ

  • খুব চঞ্চল এবং দ্রুতগতির পাখি।

  • এক ফুল থেকে আরেক ফুলে উড়ে উড়ে মধু খায়।

  • সাধারণত একা বা জোড়ায় থাকে।

  • মধুর স্বরে ডাকতে থাকে, যা ছোট অথচ টানা শব্দের।

  • সূর্যের আলোয় পুরুষ পাখির গা যেন নীল-রূপের আলো ছড়ায়।

প্রজনন

পার্পল সানবার্ড (Purple Sunbird) এর প্রজনন মৌসুম সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত। এরা খুবই মজার স্টাইলে বাসা তৈরি করে। এদের বাসা দেখতে অনেকটা ঝুলন্ত থলের মতো। ঘাস, তুলা, মাকড়সার জাল, কাগজের টুকরা এবং বিভিন্ন নরম উপাদান দিয়ে বাসা তৈরি হয়।

স্ত্রী পাখি সাধারণত ১-৩টি ডিম পাড়ে। ডিমের রঙ সাদা বা ফ্যাকাশে। উভয় পাখিই ডিমে তা দেয় এবং বাচ্চাদের খাবার খাওয়ায়।

পরিবেশের গুরুত্ব

পার্পল সানবার্ড শুধু রঙের বাহার নয়, প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ। এরা নেক্টার খেতে গিয়ে বিভিন্ন ফুলের পরাগ ছড়ায়। এভাবে গাছের প্রজননে সাহায্য করে এবং পরিবেশের জীববৈচিত্র্য বজায় রাখে।

উপসংহার

বাংলাদেশের প্রকৃতিতে পার্পল সানবার্ড (Purple Sunbird) এক অসাধারণ সৌন্দর্যের নাম। ক্ষুদ্র আকার, কিন্তু অপার নীলের ঝলকানি আর চঞ্চল স্বভাব প্রকৃতিপ্রেমীদের মন জয় করে। প্রকৃতির কোলে হাঁটতে বের হলে নজর রাখুন চারপাশে। হয়তো কোনো ফুলের গাছ থেকে উড়ে আসবে একজোড়া নীলসুন্দর পাখি, যার ডানায় মিশে আছে রোদ্দুরের আলো।


Comments

Popular posts from this blog

পাহাড় আর মানুষের গল্প: জুমঘর

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জীবনে জুম ঘরের গুরুত্ব, ইতিহাস, নির্মাণ পদ্ধতি, ব্যবহার, সংস্কৃতি এবং এর সঙ্গে জড়িত জীবনযাত্রার গল্প জানুন এই বিশদ বাংলা ব্লগপোস্টে। পরিচিতি বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রকৃতি যেমন বৈচিত্র্যময়, তেমনি বৈচিত্র্যময় এখানকার মানুষের জীবনযাত্রা। পাহাড়, ঝর্ণা, নদী আর সবুজ বন-জঙ্গলের মধ্যে গড়ে ওঠা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনধারায় এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে জুম চাষ । আর এই ঝুম চাষের অপরিহার্য অংশ জুমঘর (Jhum Ghor)। জুমঘর শুধু একটি বাসস্থান নয়; এটি পাহাড়িদের সংস্কৃতি, জীবনযাপন, পরিশ্রম আর প্রকৃতির সঙ্গে তাদের মেলবন্ধনের প্রতীক। জুমঘর জুম চাষ আর ঝুম ঘরের সম্পর্ক জুম চাষ বলতে বোঝায় পাহাড়ের ঢালে গাছপালা কেটে, পুড়িয়ে সেখানে বিভিন্ন শস্য ফলানো। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জন্য এ চাষ এক ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি, যা তাদের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকার মূল ভরসা। জুম চাষের মৌসুমে পাহাড়ি মানুষদের প্রায়ই চাষের জমির কাছেই থাকতে হয়। কারণ পাহাড়ি পথ দীর্ঘ, দুর্গম, প্রতিদিন গ্রাম থেকে যাতায়াত করা সম্ভব হয় না। তখনই দরকার হয় জুম ঘরের। জুম ঘর হলো এমন এক ছোট কুঁড়েঘর, যা চাষে...

Masked finfoot (কালোমুখ প্যারা পাখি)

পৃথিবীর পাখি জগতের অন্যতম রহস্যময় এবং বিরল পাখি হলো মাস্কড ফিনফুট । এর  ইংরেজি নাম Masked finfoot( কালোমুখ প্যারা পাখি)  এবং নবৈজ্ঞানিক নাম Heliopais personatus । বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু দেশে এ পাখির দেখা মেলে। দুর্লভতার কারণে অনেকেই এ পাখির নাম শোনেননি। চলুন এই অসাধারণ পাখিটি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই। Masked finfoot (ছবিটি সুন্দরবন থেকে তোলা) বাহ্যিক রূপ ও চেহারা মাস্কড ফিনফুটের গায়ের রঙ ধূসর-বাদামী। এর চোখের চারপাশে কালো মাস্কের মতো চিহ্ন থাকে, যা একে “Masked” অর্থাৎ মাস্ক পরা বা মুখোশ পরা পাখির উপাধি দিয়েছে। এর পা লম্বা ও সবুজাভ-হলুদ রঙের হয়, এবং পায়ের আঙুলগুলোতে ফ্ল্যাপযুক্ত ঝিল্লি থাকে, যা একে সহজে সাঁতার কাটতে সাহায্য করে। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৩-৫৫ সেমি হয়। আবাসস্থল এরা সাধারণত শান্ত জলাশয়, খাল, নদীর পাড়, জলাভূমি এবং জঙ্গল ঘেরা নদীর ধারে থাকতে পছন্দ করে। ঘন জঙ্গলের আড়ালে থাকা এদের প্রিয়। এজন্য এদের দেখা পাওয়া বেশ কঠিন। খাদ্যাভ্যাস মাস্কড ফিনফুট বিভিন্ন জলজ পোকামাকড়, শামুক, মাছ, কেঁচো, এবং ছোট জলজ প্রাণী খ...